মিশরে পড়াশোনা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর অসংখ্য বাংলাদেশি পাড়ি জমান। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু কায়রোতে পৌঁছানোর পর তাদের অধিকাংশেরই অভিজ্ঞতা হয় প্রায় একই রকম। দেশ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মে যে মান্য আরবি (ফুসহা) শিখে তারা মিশরে যান, বাস্তবে গিয়ে দেখেন স্থানীয় মানুষ প্রাত্যহিক জীবনে সেই ভাষায় কথা বলছেন না। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পর ট্যাক্সি চালক, বাজারের দোকানদার, রেস্টুরেন্টের ওয়েটার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা—সবাই ব্যবহার করছেন আঞ্চলিক মিশরীয় কথ্য ভাষা, যা আম্মিয়া নামে পরিচিত। ফলে শুরুতেই এক বড় ভাষাগত বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় নতুন প্রবাসীদের।
ফুসহা আরবি আপনাকে বই-পুস্তক পড়া বা প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুযোগ করে দিলেও মিশরের প্রাত্যহিক জীবনের জন্য আম্মিয়ার বিকল্প নেই। বাজার থেকে শাকসবজি বা নিত্যপণ্য কেনা, কেনাকাটায় দরদাম করা, ট্যাক্সি চালককে গন্তব্য বুঝিয়ে দেওয়া কিংবা বাসা ভাড়া নেওয়ার মতো মৌলিক কাজগুলোতে আম্মিয়া না জানার কারণে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও অস্বস্তি তৈরি হয়। স্থানীয় বন্ধুদের সঙ্গে সহজভাবে মনের ভাব প্রকাশ করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতাল ও ফার্মেসিতে নিজের কষ্টের কথা গুছিয়ে বলাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রবাস জীবনের প্রথম দিনগুলোতে এই ভাষাগত দূরত্ব অনেকের জন্যই বেশ মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তব সমস্যা এবং নিজের সরাসরি অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য বিশেষ কোর্স "এসো আম্মিয়া শিখি"। লেখক যখন নিজে মিশরে গিয়ে ফুসহা আরবি জানা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কথা বুঝতে ও নিজের বক্তব্য বোঝাতে বাধার সম্মুখীন হন, তখনই তিনি অনুভব করেন—একটি সহজ ও ব্যবহারিক বইয়ের প্রয়োজন যা নতুনদের ধাপে ধাপে বাস্তব জীবনের কথ্য ভাষা শেখাবে। এই চিন্তা থেকেই মূলত চার খণ্ডের এই পূর্ণাঙ্গ বই সিরিজের জন্ম, যা সম্পূর্ণভাবে মিশরীয় জীবনের প্রাত্যহিক প্রয়োজনকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে।
"এসো আম্মিয়া শিখি" কোনো তাত্ত্বিক ব্যাকরণের বই বা ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা সাধারণ গাইড নয়। এটি ৪টি খণ্ডে সাজানো একটি সুনির্দিষ্ট ও ধারাবাহিক পাঠ্যক্রম। প্রথম খণ্ডে একেবারে প্রাথমিক বর্ণমালা, সঠিক উচ্চারণ এবং মৌলিক পরিচিতি দিয়ে যাত্রা শুরু হয়। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের সংলাপ, প্রয়োজনীয় শব্দভাণ্ডার, সময় ও সংখ্যার ব্যবহার এবং জটিল পরিস্থিতি সামলানোর মতো বাক্য গঠন শেখানো হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায়কে একটি ক্লাসের মতো করে সাজানো হয়েছে, যেন একজন শিক্ষার্থী একা একা পড়লেও শিক্ষকের দিকনির্দেশনা অনুভব করেন। পাঠগুলোর সাথে সহজ রিডিং ও অনুশীলনী যুক্ত থাকায় পড়া বিষয়গুলো সহজেই আয়ত্তে চলে আসে।
এই বই সিরিজটি বিশেষ করে আল-আজহার ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নতুন প্রবাসী, চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারীদের জন্য একটি কার্যকর মাধ্যম। এর সাহায্যে খুব সহজেই সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়, নিজের পরিচয় দেওয়া, বাজারে কেনাকাটা করা, রেস্টুরেন্টে খাবার অর্ডার করা, বাস বা মেট্রোতে যাতায়াত এবং বিশ্ববিদ্যালয় বা সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে ওঠে। বাজারে থাকা অধিকাংশ আরবি শেখার বই যেখানে ফুসহা বা সাহিত্যিক আরবির ওপর জোর দেয়, সেখানে এই সিরিজটি সম্পূর্ণভাবে প্রাত্যহিক মুখের ভাষাকে প্রাধান্য দিয়েছে, যা পড়া মাত্রই বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব।
একটি নতুন দেশে গিয়ে ভাষাগত অজ্ঞতার কারণে অসহায় বোধ করার চেয়ে আগে থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। ফুসহা আরবি আপনাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক সফলতা দেবে, কিন্তু আম্মিয়া আপনাকে মিশরের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাবে। ধাপে ধাপে আম্মিয়া শিখে মিশরের প্রতিটি দিনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে "এসো আম্মিয়া শিখি" (৪ খণ্ড) বইটি হতে পারে আপনার প্রবাস জীবনের অন্যতম সেরা সহায়।
